দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরো এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এলাকার মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেবার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘রোগীরা এখানে কোনো সেবা পাচ্ছেন না। আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক।’
আরেক বাসিন্দা মাহবুবর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের দেয়াল ধসে পড়ছে। ভবনের ওপর এখন সাপের বসবাস। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো জায়গাটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।’
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুরের উপপরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় অনেক কেন্দ্রই বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশাখালী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হয়েছে এবং তিনি সেবা দিচ্ছেন। শিগগিরই একজন নার্স যোগ দেবেন। পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরের আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও তিনতলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি