আন্তর্জাতিক

ইবোলা সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোয় নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোর ক্ষমতাসীন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (২৭শে সেপ্টেম্বর) দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের বুতেম্বো শহরে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) ক্ষমতাসীন দলের এক প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নেতার নাম মারি-সেলেস্তাঁ কারোন্দওয়া। তিনি বুতেম্বোতে ক্ষমতাসীন ইউডিপিএস দলের ফেডারেল নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইবোলা নিয়ে রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন

দলটির বুতেম্বো ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারোন্দওয়া ইবোলা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ইবোলা প্রতিরোধে করণীয় এবং ভাইরাসটির ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলেন।

রেডিও অনুষ্ঠান শেষে নিজের এলাকার বাসিন্দাদের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

পরে কারোন্দওয়ার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার কারণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই

কারোন্দওয়ার ওপর হামলায় কারা জড়িত ছিল, কতজন এতে অংশ নিয়েছিল এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুতেম্বোর মেয়রের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কারোন্দওয়ার দল জানিয়েছে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং রোগটি মানুষের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করছে, সে বিষয়ে তিনি শুধু দলের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

ইবোলা মোকাবিলায় বাড়ছে বাধা

কারোন্দওয়াকে হত্যার ঘটনাটি ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা দলগুলোর ওপর হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। এসব হামলার মধ্য দিয়ে রোগ প্রতিরোধে সরকারি সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

উত্তর কিভুর কাছের বেনি এলাকায় শনিবারও একটি হাত ধোয়ার কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালায়। স্থানীয় একটি নাগরিক সংগঠনের দাবি, ওই ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতা তৈরি, রোগ শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ ঠেকাতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এসব কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রকাশ করে আসছে। এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত অন্যান্য দলের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

কঙ্গোয় বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয় গত ১৫ মে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৮ হাজার ৬৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৯০১ জন।

উত্তর কিভুর বুতেম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম বেশি আক্রান্ত অঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনা ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

কারোন্দওয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইবোলা প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর