দেশজুড়ে

অসময়ের বন্যার শঙ্কায় কুড়িগ্রামের কৃষক, তলিয়ে যাচ্ছে আমন-বাদাম

কুড়িগ্রামে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফের বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ জেলার সব নদ-নদীর পানি। এর মধ্যে তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরাও।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এ ছাড়া দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ৪১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারসংলগ্ন তিস্তা নদীর চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বীজ বাদাম ও আমন ধানের খেত।

স্থানীয় কৃষক আবু বকর বলেন, নদীর পানি বাড়ায় আমন ধান তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বাধ্য হয়ে আধা পাকা ও কাঁচা আমন ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসছেন তারা।

আরেক কৃষক নাইমুদ্দিন বলেন, এবার নিয়ে তিনবার বন্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। অসময়ে পানি বাড়ায় বীজের জন্য চাষ করা বাদাম তলিয়ে গেছে। আমন ধানও পুরোপুরি পাকার আগেই কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারাও বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। ফসল ও বসতভিটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী এক থেকে দুই দিনে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি আরও বাড়তে পারে। তবে স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীর জানান, নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর