কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির পাশে পরিচালিত হচ্ছে অনুমোদনহীন ইটভাটা। উপজেলার চাক্তাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানার অদূরে মেসার্স ডিজিএল ব্রিকস নামের ওই ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাক্তাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছেই স্থাপন করা হয়েছে ডিজিএল ব্রিকস। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত-আট বছর ধরে ভাটাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাটা চালু হলে কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। অনেক শিক্ষার্থী কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগে বলেও তারা জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভাটা চালু হলে ঘরবাড়িতে ধুলার আস্তরণ পড়ে যায়। গাছের ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমির উর্বরতাও কমছে। শিশু ও বয়স্করা ধুলাবালির কারণে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনে বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ বিষয়ে চাক্তাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিজিএল ব্রিকসের মালিক সাইফুর রহমান বাবলুর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোক্তার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, ডিজিএল ব্রিকসের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। গত বছর ভাটাটিকে জরিমানা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির মাঝখানে হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। রৌমারীতে কাগজপত্রহীন ছয়টি ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলে অভিযান চালানো হবে।
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি