এসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা মালয়েশিয়ার সামনে বেশ ছন্নছাড়া দেখা গেছে বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে মালয়েশিয়া।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৩৬ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে থাকে মালয়েশিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে শুরু থেকেই সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। বল দখলে রাখতে না পারার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রথমবার বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। কর্নার থেকে আসা বল গোলবারের দিকে জোরালো শট নেন মালয়েশিয়ার এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কোনোমতে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন।
এরপরও বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে মালয়েশিয়া। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়ে উঠছিল না।
অবশেষে ম্যাচের ১৮তম মিনিটে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে বাংলাদেশের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড আরিফ আইমান। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাস্ত করে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান তিনি। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া।
গোল হজমের পরও বাংলাদেশের খেলায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং মালয়েশিয়া নিজেদের আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বারবার চাপের মুখে পড়তে থাকে।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে বাংলাদেশের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মালয়েশিয়া। তপু বর্মণের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান মালয়েশিয়ার অন্যতম সেরা তারকা আরিফ আইমান। সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
আরিফ আইমানের দ্বিতীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। বাকি সময়ে বাংলাদেশ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও মালয়েশিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ শেষ হয় মালয়েশিয়ার ২-০ গোলের লিড নিয়ে। প্রথম ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপরীতে বাংলাদেশের খেলায় ছিল অগোছালো ভাব। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরার চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ