বিনোদন

শুধু কাজ নয়, প্রিয়জনকেও সময় দিতে চান মধুমিতা সরকার

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘদিন ধরে টালিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। সাবলীল অভিনয়, বৈচিত্র্যময় চরিত্র বাছাই এবং পর্দায় নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কারণে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে টেলিভিশন ও সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামনেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মধুমিতার নতুন সিনেমা ‘অটবি’। ছবিটির প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের নতুন চরিত্র, অভিনয় নিয়ে ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

ছবি<<সংগৃহীত

‘অটবি’তে মধুমিতাকে দেখা যাবে তার আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন একটি চরিত্রে। চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক দিকই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, একজন পরিচালক তাকে এমন একটি চরিত্রে কল্পনা করেছেন—এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। কারণ একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না তিনি।

নতুন চরিত্রটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর মনস্তত্ত্ব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। মধুমিতা জানান, চরিত্রটির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তার অভিনয়ের ধরন অনেক জায়গাতেই আলাদা রাখতে হয়েছে। কখনো চোখের অভিব্যক্তি এবং মুখের অভিব্যক্তির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অমিল তৈরি করতে হয়েছে। চরিত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরী ভাষা, চোখের দৃষ্টি ও অভিব্যক্তির ওপরও বিশেষভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছবি<<সংগৃহীত

অভিনেত্রীর মতে, কোনো চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু সংলাপ বলাই যথেষ্ট নয়। চরিত্রটির ভেতরের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থাকে শরীরী ভাষা এবং চোখের মাধ্যমে প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘অটবি’র ক্ষেত্রে সেই জায়গাটিই তার জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসময় নিয়মিত প্রচুর কাজ করেছেন মধুমিতা। তবে এখন তুলনামূলকভাবে বেছে কাজ করছেন তিনি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

মধুমিতার কাছে বাবা-মা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে যায় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যের পেছনে ছুটলেই হয় না; পরিবার ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়াও প্রয়োজন।

ছবি<<সংগৃহীত

পেশা ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পক্ষপাতী মধুমিতা। অভিনয়কে ভালোবাসলেও ব্যক্তিগত জীবনকে অবহেলা করতে চান না তিনি। তার মতে, একজন মানুষের জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যই সবকিছু নয়। পরিবার, সম্পর্ক এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বা কম্প্যাটিবিলিটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। দুজন মানুষের মতামত সব বিষয়ে এক হওয়া জরুরি নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মিল থাকা প্রয়োজন বলে তার মত।

ছবি<<সংগৃহীত

প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছরের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন মধুমিতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে কখনো আড়ালে থাকলেও দর্শক তাকে খোঁজেন—এটিই তার কাছে বড় পাওয়া।

তবে শুধু প্রশংসা নয়, নিজের কাজের সমালোচনাও শুনতে চান মধুমিতা। কোনো কাজে ভুল হলে দর্শক যেন তা নিয়ে কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার। কারণ দর্শকের এই প্রতিক্রিয়াই একজন শিল্পীকে নিজের কাজ নিয়ে আরও ভাবতে এবং উন্নতি করতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন সিনেমা ‘অটবি’তে ভিন্ন চরিত্রে মধুমিতার উপস্থিতি তাই তার ক্যারিয়ারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ করতে যাচ্ছে। দর্শক কীভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এই অভিনেত্রী।

সূত্র: এই সময়

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর