দেশজুড়ে

সড়ক হারিয়ে কালভার্টগুলো এখন ‘বিষফোঁড়া’

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচর এলাকার গাবতলী খালে নির্মিত আটটি কালভার্ট এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কালভার্টগুলোর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে কালভার্টগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কালভার্টের দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। স্থানীয়রা বিকল্প সড়ক তৈরি করে চলাচল করায় কালভার্টগুলো এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের স্রোত এবং ২০২৪ সালের বন্যায় কালভার্টগুলোর দুই পাশের সড়ক ভেঙে যায়। পরে সড়কগুলো খালের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় কালভার্টগুলো কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কালভার্ট নির্মাণে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর এসব কালভার্ট স্থানীয় মানুষের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন একটি কালভার্টের পশ্চিম পাশে মোহাম্মদপুর এবং পূর্ব পাশে ডাকাইয়া গ্রাম। এ দুই গ্রামসহ আশপাশের আরও পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তেগাছিয়া বাজার, টাঙ্কি বাজার, ব্রিজঘাট ও রামগতি বাজারে যাতায়াতের জন্য কালভার্টগুলো ব্যবহার করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, কালভার্টগুলো একসময় মানুষ ব্যবহার করলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে আছে। এখন খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কালভার্টগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা মো. বাবলু বলেন, কালভার্টগুলো এখন মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির স্রোত কালভার্টে ধাক্কা খেয়ে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত এগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ‘কালভার্টগুলো মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এগুলো এখন আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার।’

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরিত্যক্ত কালভার্টগুলো নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর