বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে আবারও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়েছে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)। তবে তার পরবর্তী দায়িত্বের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ফলে একাডেমির ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন—স্টালিনই থাকছেন, নাকি আসছে নতুন নেতৃত্ব?
- স্টালিনের এক বছরের চুক্তি শেষ, সিদ্ধান্ত ঝুলে মন্ত্রণালয়ে
- মহাপরিচালক পদে নতুন মুখ নাকি মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষা
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়
সোমবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে দপ্তরে পাওয়া যায়নি রেজাউদ্দিন স্টালিনকে। ফোনে তিনি জানান, তিনি তখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তার বক্তব্য, সিদ্ধান্ত নেবে সরকার এবং বিকেলের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পকলার মহাপরিচালক নিয়োগের ফাইল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে সিদ্ধান্তটি এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই আটকে আছে।
একাডেমিতে নেতৃত্ব বদলের ধারাবাহিকতা
রেজাউদ্দিন স্টালিনের সম্ভাব্য মেয়াদ বৃদ্ধির আলোচনা যেমন আছে, তেমনি নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত এক বছরে মহাপরিচালকের পদে একাধিক পরিবর্তন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে স্থিতিশীলতার প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিনের মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী পদত্যাগ করেন। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নাট্যনির্দেশক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদকে দুই বছরের জন্য মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন।
ছয় মাসে কয়েক দফা দায়িত্ব বদল
জামিল আহমেদের পদত্যাগের পর ৪ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন। প্রায় ছয় মাস পর ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল ফয়েজকে দেওয়া হয় অতিরিক্ত দায়িত্ব। তিনি প্রায় এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মহাপরিচালকের চেয়ারে বসেন রেজাউদ্দিন স্টালিন।
ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একাডেমির শীর্ষ প্রশাসনিক পদে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত এবার শুধু একজন কর্মকর্তার নাম নির্ধারণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ পরিচালনার দিকটিও জড়িয়ে আছে।
পরিচালকরাও অনিশ্চয়তায়
শুধু মহাপরিচালক নন, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর একাডেমির চারটি বিভাগে নিয়োগ পাওয়া পরিচালকদের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রেও নবায়ন হবে, নাকি নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে—সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পকলার বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই একসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, একাডেমি আবারও নতুন নেতৃত্বের পথে যাবে, নাকি বিদ্যমান কাঠামোতেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এম/এএইচ