জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ে দলটির নেতৃত্বের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিয়ে সমালোচনা উঠে এসেছে। তাঁর মতে, একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলটি ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়েছে।
‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শিরোনামের বইয়ে ৩৩ বছর জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আবদুর রাজ্জাক। বইটিতে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা, একাত্তর ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ এবং দলটির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের বিষয়গুলোও এসেছে।
বইয়ের ‘রিফর্ম এজেন্ডা উইদিন জামায়াত’ অধ্যায়ে আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, ২০১৯ সালে এক পর্যায়ে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের ভূমিকার বিষয়টি মোকাবিলা করে দল বিলুপ্ত করে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে নেতৃত্ব। এর পরপরই তিনি দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
আবদুর রাজ্জাক আরও লিখেছেন, একাত্তরে দলের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বৈঠকও হয় এবং ক্ষমা চাওয়ার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে নেতৃত্বের মত পরিবর্তন, দলীয় পর্যায়ে বিরোধিতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
বইয়ে জামায়াতের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়েও আলোচনা করেছেন রাজ্জাক। প্রকাশনা-সংক্রান্ত আলোচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীসহ বক্তারা দলটির সংস্কার ও একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মত তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে জানান, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মজলিসে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ৪ মে দেশে ফেরেন। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ২০২৬ সালে বইটি প্রকাশিত হয়।
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি