বলিউডের জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার ফিটনেস নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। বয়স বাড়লেও তার ফিট ও ছিপছিপে শরীর অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি যোগাসনের মাধ্যমেও নিজেকে ফিট রাখেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নিজের শরীরচর্চার বিভিন্ন ভিডিও ও কৌশল শেয়ার করেন মালাইকা। বিশেষ করে পেট, কোমর ও নিতম্বের অতিরিক্ত মেদ কমাতে কিছু যোগাসন ও ব্যায়াম বেশ কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট কিংবা না খেয়ে থাকার পথ বেছে নেন। তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সবসময় সম্ভব নয়। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ।
মালাইকার মতে, বয়স ৪০ পেরোনোর পর অনেকের জন্য জিমে গিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ব্যায়াম করা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে যোগাসন হতে পারে তুলনামূলক সহজ একটি বিকল্প। নিয়ম মেনে অনুশীলন করলে শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশি সক্রিয় রাখার পাশাপাশি নমনীয়তাও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক মালাইকার ফিটনেস রুটিনে থাকা কয়েকটি ব্যায়াম সম্পর্কে—
কপোতাসন
প্রথমে ম্যাটের ওপর হামাগুড়ি দেওয়ার মতো ভঙ্গিতে অবস্থান নিন। এরপর একটি পা সামনে এনে হাঁটু ভাঁজ করে রাখুন এবং অন্য পা পেছনের দিকে প্রসারিত করুন। দুই হাত মাটিতে রেখে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কোমর যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে। কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকার পর পেছনের পা ভাঁজ করে শরীরের দিকে আনার চেষ্টা করুন। এরপর হাত মাথার পেছনে নিয়ে পায়ের পাতার সঙ্গে সংযোগ করার ভঙ্গি করা যায়।
তবে নতুনদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অনুশীলন করা জরুরি। শরীরে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ভঙ্গিটি করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
শলভাসন
প্রথমে উপুড় হয়ে ম্যাটের ওপর শুয়ে পড়ুন। দুই পা পাশাপাশি রেখে সোজা করে রাখুন এবং হাত শরীরের পাশে বা ঊরুর নিচে রাখুন।
এবার ধীরে শ্বাস নিতে নিতে একটি পা ওপরের দিকে তুলুন। খেয়াল রাখতে হবে, হাঁটু যেন ভাঁজ না হয়। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে শ্বাস ছাড়ার সময় পা ধীরে নিচে নামিয়ে আনুন।
এরপর একইভাবে দুই পা একসঙ্গে ওপরে তোলার চেষ্টা করুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী কয়েকবার এই অনুশীলন করা যেতে পারে।
সিটেড হিপ রোটেশন
ম্যাটের ওপর পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এরপর হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে শরীরের ভারসাম্য নিতম্বের ওপর রাখুন।
এবার ধীরে ধীরে পা ও কোমরকে বৃত্তাকারে ঘোরানোর চেষ্টা করুন। পুরো অনুশীলনের সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।
এই ব্যায়াম শরীরের নিম্নাংশের পেশিগুলো সক্রিয় রাখতে এবং নিতম্ব ও কোমরের নমনীয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সন্ধানী বার্তা/জেএন