অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে আসছে ডেরিভেটিভস, জানুয়ারি ২০২৮ থেকে লেনদেনের আশা

পুঁজিবাজারে আইপিও ছাড়াই সরাসরি সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে নতুন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে নতুন পণ্য হিসেবে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

মঙ্গলবার বিএসইসির ১০২৭তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। পরে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। খসড়াটি শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন ১০ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি আইপিও ছাড়াই সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। তবে এ সুবিধা নিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

এ সুবিধার আওতায় সরকারি বা সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি, নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারি মালিকানা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট মূলধন ও ব্যবসায়িক সক্ষমতাসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ, আইসিটি, অবকাঠামো ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা পেতে পারে।

এদিকে জেড-ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও পূর্বানুমোদনের নিয়ম শিথিল করেছে বিএসইসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত বা কোনো শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর কারণে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিএসইসির পূর্বানুমোদন আর প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের নিজস্ব তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স (ডিটিএ) সার্টিফিকেট পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠাতে হবে।

অন্যদিকে, পুঁজিবাজারে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর জন্য ডিএসইর কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এতে নিয়ন্ত্রক কাঠামো, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, অবকাঠামো, ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ‘ইনডেক্স ফিউচার’ দিয়ে ডেরিভেটিভসের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব প্রস্তুতি ঠিকভাবে এগোলে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে এর আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হতে পারে। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বিএসইসি।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর