রাজধানী

৪৪ শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, গ্যাসসংকটের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক মজলিস।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণ, গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিক কার্ড চালুর দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক মজলিস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দিতে হবে। ৪৪টি কলকারখানা বেসরকারি করণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত করা যাবে না। এসব শিল্পকারখানাকে সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

গ্যাস সংকটের কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ তুলে মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘গ্যাসসংকটের কথা বলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। অবৈধভাবে কলকারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে তার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ছাঁটাই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের সব ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক কার্ড চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে শ্রমিক মজলিসের সভাপতি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে যে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট করা হয়েছে, সেটিও দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও যেন কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের কারণে সাধারণ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা রক্ষা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে শিল্পখাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিক মজলিসের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সন্ধানী বার্তা/আরডি/এমডিএইচ


সম্পর্কিত খবর