আন্তর্জাতিক

নেপালে নতুন আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমেছে, ফের শুরু উদ্ধার অভিযান

গত বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নদীর উজানে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া একটি লেকে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় এ শঙ্কা দেখা দেয়। তবে লেকটির পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। এর ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছে কৃত্রিম লেকটি তৈরি হয়। নদী দুটির উৎপত্তি তিব্বতে এবং নেপালে প্রবেশের আগে এগুলো একত্রিত হয়ে ভোটেকোশি নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। ভোটেকোশি নদী ত্রিশূলি নদীর অন্যতম প্রধান ঊর্ধ্ব শাখা।

গত বুধবার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায়। নদীর তীরবর্তী বহু অবকাঠামোও বন্যার স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে উজানে তৈরি হওয়া কৃত্রিম লেকটির পানি এখন ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে গিয়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির আশঙ্কা কমেছে।

চীন ও নেপালের কর্মকর্তারা শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জানিয়েছেন, লেকটির পানি স্বাভাবিকভাবে কমছে। চীনের আনেং গ্রুপের থার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরোর কর্মকর্তা ঝো ঝিডং জানান, শুক্রবার সকাল থেকে লেকটির পানির স্তর কমতে শুরু করে।

তিনি বলেন, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার লেকটির পানির গভীরতা প্রায় ১০ মিটার কমেছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিব্বতে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি চীন।

নতুন করে বন্যার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে আরও জোর দিচ্ছে।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর