বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, সেনানিবাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট কোরগুলোর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাভারে কোর অব মিলিটারি পুলিশ (সিএমপি) এবং রিমাউন্ট ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফার্ম (আরভিএন্ডএফ) কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পৃথকভাবে আয়োজিত সম্মেলন দুটি অনুষ্ঠিত হয় সাভারের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (সিএমপিসিএন্ডএস) এবং আরভিএন্ডএফ ডিপোতে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় মিলিটারি পুলিশের গুরুত্ব
কোর অব মিলিটারি পুলিশের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাপ্রধান উপস্থিত অধিনায়ক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোরের বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোর অব মিলিটারি পুলিশের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশমাতৃকার সেবায় এ কোরের অবদানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের পেশাদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি অনেকাংশে মিলিটারি পুলিশের পারদর্শিতা ও কার্যকর ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। সেনানিবাসগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় কোরটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশ সদস্যরা শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় উচ্চমানের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ
সম্মেলনে কোর অব মিলিটারি পুলিশের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে আলোচনায়। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন সেনাপ্রধান।
পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আরভিএন্ডএফ কোর
এরপর সাভারের আরভিএন্ডএফ ডিপোতে অনুষ্ঠিত হয় কোরটির চতুর্থ বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন। সেখানে সেনাপ্রধান আরভিএন্ডএফ কোরের ঐতিহ্য ও দেশের সেবায় এর অবদানের কথা তুলে ধরেন। সেনাবাহিনীর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ কোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর অধীন ফার্মগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তিনি।

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ
দুটি সম্মেলনের আলোচনায় মূলত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একদিকে মিলিটারি পুলিশ সেনানিবাসের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সরাসরি ভূমিকা রাখছে; অন্যদিকে আরভিএন্ডএফ কোর সেনাবাহিনীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিশ্চিত করছে। ফলে উভয় কোরের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি সেনাবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠান দুটিতে মিলিটারি পুলিশের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান, আর্টডকের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, আরভিএন্ডএফ কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোল্লা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সেনাসদর ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট কোরগুলোর অধিনায়ক ও কর্মকর্তারাও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দুটি সম্মেলনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কোরের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকনির্দেশনাও উঠে এসেছে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিলিটারি পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় আরভিএন্ডএফ কোরের সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামগ্রিক দক্ষতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যই সম্মেলন দুটির আলোচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
এমএএএমকে