বিনোদন

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় আটকা ‘শিকার’-এর খরাজ, ফিরতে পারছেন না কলকাতায়

বাংলাদেশি সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিং করতে গিয়ে নেপালে আটকা পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। নেপালের চীন সীমান্তঘেঁষা রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে শুটিং শেষে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল রসুয়া জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এর মধ্যেই প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। এতে ভেসে যায় রাস্তা ও সেতুর বিভিন্ন অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো।

দুর্যোগের পর খরাজের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে না পারায় উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের নিরাপদে থাকার খবর জানান তিনি।

খরাজ জানান, গত ২০ আগস্ট ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ আগস্ট শুটিং শেষে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ বৃষ্টি, বন্যা ও ধসের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

অভিনেতার ভাষায়, ‘ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই।’

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে খরাজ জানান, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জঙ্গলে আটকে থাকতে হয়েছিল পুরো দলকে।

তিনি বলেন, ‘কালকে শুটিং করছিলাম, পাঁচ ঘণ্টার মতো আমরা বৃষ্টির মধ্যে জঙ্গলে বসে ছিলাম। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ছিলাম।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ আগস্ট সকালে কাঠমান্ডু থেকে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক ও বিমান যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

এখন সড়কপথে গোরখপুর যাওয়ার চেষ্টা করছেন খরাজ। সেখান থেকে ২৮ আগস্টের একটি ফ্লাইটে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রজতাভ দত্তও অংশ নিচ্ছেন। সিনেমাটিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসকে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে।

এর আগে অপু বিশ্বাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নেপালে থাকা ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদে আছে।

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে শুটিং ইউনিটের সদস্যরা নিরাপদে থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁদের দেশে ফেরার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর