তথ্যপ্রযুক্তি

আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে, অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার আগেই এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় সরবরাহকারী টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলার পর চুরি হওয়া নথির মধ্যে আসন্ন আইফোনটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা নথিগুলোতে আইফোন ১৮ প্রোর শত শত যন্ত্রাংশের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব নথিতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি ও ক্যামেরার বিভিন্ন অংশের তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে অ্যাপল কোন যন্ত্রাংশের জন্য কোন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর করছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশসংক্রান্ত এ ধরনের তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখে।

চুরি হওয়া ফাইলগুলোর মধ্যে আইফোনের ড্রপ-টেস্টের ছবিও রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ছবিতে ধূসর রঙের একটি বার আকৃতির স্মার্টফোন, পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা যায়।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ছবিতে থাকা ফোনটির মডেল নম্বর তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র দাবি করেছে, ছবিগুলো আইফোন ১৮ প্রো মডেলের।

ঘটনার সূত্রপাত টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলা থেকে। জুনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কয়েকটি সিস্টেমে সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায়। এর আগে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, World Leaks নামের একটি র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী টাটা ইলেকট্রনিকসের চুরি করা তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গোষ্ঠী ২ লাখের বেশি ফাইল প্রকাশ করেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এসব ফাইলের মধ্যে অ্যাপল ও টেসলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথিও থাকার দাবি করা হয়। তবে প্রকাশিত সব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফাঁসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু নতুন আইফোনের তথ্য প্রকাশ নয়। সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশের তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় অ্যাপলের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল পণ্য প্রস্তুতকারী ও অন্যান্য ব্যবসায়িক পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অ্যাপল বিষয়টি তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। একই সময়ে টাটা ইলেকট্রনিকস সংবেদনশীল সিস্টেমে অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে ভারত সরকারও তদন্ত শুরু করেছে। ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস কৃষ্ণন ৩ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, টাটা ইলেকট্রনিকসের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে অ্যাপল এখনো নতুন মডেলগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর