আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর লাগোয়া উপকূলীয় অঞ্চ ব্যাপক শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার কলম্বিয়ার স্থানীয় সময় সকালের দিকে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটি।

এর আগে রাজধানী বোগোটা এবং প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া কারোলিনা কর্ডোবা-কুরি বলেছেন, ‘‘আমরা মাত্রই চোকো বিভাগে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছি। আমরা আফটার শকের বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমার শহরের কাছে। তবে আমাদের রাজধানী কিবদো শহরের বেশ কিছু ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছি এবং শিগগিরই এই বিষয়ে সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করব।

প্রতিবেশী রিসারালদা প্রদেশের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ব্লু রেডিওকে বলেন, প্রাদেশিক রাজধানী পেরেইরা শহরের কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, সেটি অত্যন্ত ভয়াবহ। যে ছবিগুলো সামনে আসছে তা সত্যিই মর্মান্তিক। অনেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রচুর ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়েছে।

এদিকে মার্কিন সুনামি সতর্ক কেন্দ্র বলেছে, কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলেও দেশটির সুনামির হুমকি কিংবা সতর্কতা নেই। অন্যদিকে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ভূমিকম্পের মাত্রা সংশোধন করে রিখটার স্কেলে ৭.৪ বলে জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটারে গভীরে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৭৯ কিলোমিটার ভূগর্ভে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছিল। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৭ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।

কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শাখা বলেছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বোগোটার মেয়র কার্লোস গালান এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পের পর দেশটির রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী রাজ্য তাচিরা এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বারকিসিমেতোও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে দেশটির নাগরিকরা জানিয়েছেন। গত জুনে ভেনেজুয়েলায় জোড়া বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে দেশটিতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে; যাদের বেশিরভাগই ছিলেন রাজধানী কারাকাসের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর