জাতীয়

সাশ্রয়ী ব্যবহারেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব: মন্ত্রী টুকু

সবাই সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহার করলে চলমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

পূর্বের কিছু জ্বালানি সরবরাহ প্রতিশ্রুতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।তিনি বলেন, আমরা জ্বালানি নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা করেছি। বর্তমানে হাতে যে মজুদ রয়েছে, তা কীভাবে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য। সবাই সচেতন হলে এই সংকট উত্তরণ সম্ভব।

মন্ত্রী জানান, পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে চারটি কার্গো বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে, যা ৯ মার্চের মধ্যে পৌঁছাবে। তবে এসব কার্গো দিয়ে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে সংকট থাকবে। আমরা স্পট মার্কেটে কেনাকাটার চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছি না।

বর্তমানে আমরা মূলত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি।বিভিন্ন খাতে রেশনিংয়ের চিন্তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচার ঠেকাতে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল ঘোষণা করা হয়নি। তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় লোডশেডিং না রাখার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

অপচয় রোধে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ করতে হবে।  পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

মার্চে পরিস্থিতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটির পর বিদ্যুতের চাহিদা কমে এলে বড় ধরনের সংকট থাকবে না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তার কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আর সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা যে সম্ভব সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর