‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ইতিহাস সচেতন বর্তমান প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা রক্ষায় সিপাহী-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করেছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়। এর মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হিসেবে ৭ নভেম্বরের জন্ম।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান স্মরণ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পরাজিত অপশক্তির পতন ঘটেছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এ সময় তিনি গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সবার পরিচয় বাংলাদেশি
জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, ‘আমরা বাংলাদেশি’। এই পরিচয়ই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে।
তিনি আরও বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।
তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; এটি আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ’। এ সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও বাংলাদেশ স্কাউটসের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি