দেশজুড়ে

বাম্পার ফলনেও লোকসান, লাউ বিক্রি হচ্ছে ২ টাকায়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ টাকায়। অথচ খেত থেকে আড়তে নিতে পরিবহণ খরচই পড়ছে লাউপ্রতি এক টাকার বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ দূরে থাক, পরিবহণ ব্যয় তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে হতাশায় কেউ কেউ খেতের লাউগাছ কেটে ফেলছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকলেও কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বিপণনব্যবস্থা না থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, আড়তদারদের দাবি, বাজারে চাহিদা কম থাকায় লাউয়ের দাম কমেছে। পণ্য ওঠানো-নামানো ও পরিবহণ খরচ মেটানোর পর তাদেরও তেমন লাভ থাকছে না।

উপজেলার কিসমত এলাকার কৃষক হাসিনুর বাড়তি লাভের আশায় নিজের ২০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এ জন্য ধারদেনাও করতে হয়েছে তাকে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ফলন ভালো হলেও বাজারে গিয়ে সেই ফলনই তার জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসিনুর জানান, খেত থেকে আড়তে লাউ পৌঁছাতে পরিবহণ খরচই পড়ে পিসপ্রতি এক টাকার বেশি। অথচ বাজারে কখনো এক টাকা, কখনো দেড় টাকা, আবার সর্বোচ্চ দুই টাকায় লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টো প্রতিটি লাউ বিক্রিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হতাশ হয়ে কেউ কেউ খেতের লাউ কেটে ফেলে দিচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ না থাকায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা। কৃষক পর্যায়ে কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে এ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ সম্ভব।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সমবায় পদ্ধতিতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। এতে কৃষক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই উপকৃত হতে পারেন।

তবে সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাজার তদারকিতে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিগগিরই লাউসহ বিভিন্ন সবজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, জেলায় প্রতিবছর ৫০০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়। জেলার কৃষি অর্থনীতিকে সচল রাখতে লাউসহ সব ধরনের কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

তবে উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের লোকসান কমানো কঠিন। তাই কৃষিপণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষক পর্যায়ে সরাসরি বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর