শিক্ষা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন চার বই আসছে পাঠ্যক্রমে

প্রচলিত মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, জীবনমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি পাঠ্যবই। নতুন বইগুলোর মাধ্যমে খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা, আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন বই চারটি হলো চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উদ্যোগে বইগুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা আরও আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই নতুন বই প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত শিক্ষা-ভাবনার অংশ হিসেবে আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চার বইয়ে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
নতুন বইগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক শিক্ষার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইয়ের মাধ্যমে আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে হাতে-কলমে শেখা এবং ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতায় বৈচিত্র্য আনবে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইনির্ভর মুখস্থবিদ্যার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় নতুন পাঠ্যবই
এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পাণ্ডুলিপি মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির সভায় অনুমোদনের পরই বইগুলোর বিষয়বস্তু মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে। তিনি জানান, অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত মুদ্রণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

মুদ্রণ করা হবে প্রায় দেড় কোটি কপি
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন চারটি পাঠ্যবইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ করার আশা করছে সংস্থাটি।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু বলেন, নতুন চারটি বই মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন করা গেলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে পাণ্ডুলিপি
এনসিটিবি জানায়, গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি কর্মশালায় নতুন বইগুলোর রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে বইগুলোর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন বইগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রস্তুতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় করার লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তোলার ভাবনা থেকেই নতুন বইগুলো পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নতুন চারটি বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত না করে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখন বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন ও মুদ্রণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

সন্ধানী বার্তা/এসএ/এমএএইচ


সম্পর্কিত খবর