গ্রামের মাটির সঙ্গে শৈশব থেকেই তাদের নিবিড় সম্পর্ক। অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন দুই ভাই রুবেল ও রাহুল। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও কৃষিকাজকে কখনো দূরে ঠেলে দেননি তারা। বরং বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষিকাজের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায়ও এগিয়ে আসছেন।
রুবেল জানান, একসময় তাদের কোনো জমি ছিল না। বাবা ও চার ভাই মিলে দীর্ঘদিন কৃষিকাজ করে ধীরে ধীরে হাওরে কিছু জমি কিনেছেন। ভবিষ্যতে আরও জমি কিনে বাবার কষ্ট কিছুটা কমাতে চান তারা।
রুবেল-রাহুলের পরিচিত সূর্য কুমার বৈষ্ণব বলেন, পড়াশোনায় ভালো হলেও দুই ভাই কখনো কৃষিকাজ ছাড়েননি। এখনো তারা মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। গ্রামের কেউ বিপদে পড়লে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান।
বাবা রবীন্দ্র দাস বলেন, ‘নিজে পড়াশোনার সুযোগ পাইনি। চাইনি ছেলেরা আমার মতো থাকুক। তাই কষ্ট করে হলেও তাদের পড়াশোনা করিয়েছি। এখন তারা শিক্ষিত হয়েও কৃষিকাজ করছে, এটা দেখলে খুব আনন্দ লাগে।’
মা সফলা রানী দাস জানান, অসুস্থ হলে দুই ছেলে রাত জেগে তার পাশে থাকেন। কাজ থেকে ফিরে মাথায় তেল মেখে দেন, রান্নাও করেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেরা মাটির মানুষ।’
সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, কৃষক রবীন্দ্র দাসের সংগ্রাম এবং সন্তানদের মানুষ করে তোলার চেষ্টা অনুকরণীয়। তার মতে, এই পরিবারের গল্প তরুণদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি