চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে কিছু অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে চিঠি দিয়ে প্রকল্পটিকে সংস্থাটির ‘ইন্টেগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বড় যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার সুবিধা, দ্রুত উড়োজাহাজ ওঠানামা, আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক, রেল ও এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে, দ্রুত বের হওয়ার ট্যাক্সিওয়ে, বড় উড়োজাহাজের জন্য ৬ থেকে ৮টি পার্কিং স্ট্যান্ড এবং প্রায় ৬টি বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে বছরে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা দেড় কোটি থেকে ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্গো ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে তা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কার্গো হাবে বন্ডেড গুদাম, এক্সপ্রেস কার্গো, ই-কমার্স সুবিধা, হিমাগার ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন হয়েছিল ৯ লাখ ৭৭ হাজার। ২০২৫ সালেও এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য ঢাকায় নিয়ে সেখান থেকে উড়োজাহাজে বিদেশে পাঠাতে হয়।
চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড, কোল্ড চেইন হাব এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আছিফ চৌধুরী বলেন, শাহ আমানতকে কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে লাউঞ্জ, চেকিং কাউন্টার ও কার্গো ভিলেজের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি