
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের চাহিদা ও পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেমন কমে আসে, তেমনি বাড়তে থাকে হারানোর ভয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অসুস্থতা, একাকিত্ব ও নানা সীমাবদ্ধতা। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মানুষ মুন্তাসির ও শাহিদা কীভাবে এসব অনিশ্চয়তার মধ্যেও একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেন—সেই গল্পই উঠে এসেছে ‘রঙিন সুরমা’য়।
চরকির এই ফ্লিকটি নির্মাণ করেছেন রিয়াজুল হক। গল্প ও চিত্রনাট্যও তাঁর। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি। সীমিত দৈর্ঘ্যের এই কনটেন্টটি আজ রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
‘রঙিন সুরমা’র গল্প আবর্তিত হয়েছে সত্য ও মিথ্যার বৈপরীত্যকে ঘিরে। নির্মাতার ভাবনায় সত্যের রং ধূসর—কারণ সত্যকে ইচ্ছেমতো বদলে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে মিথ্যার রয়েছে নানা রং। কখনো তা ভালোবাসার মতো কোমল, কখনো আনন্দের মতো উজ্জ্বল, আবার কখনো আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
মুন্তাসির ও শাহিদার জীবনও অনেকটা ধূসর বাস্তবতায় ঘেরা। বয়স, সময়, সম্পর্ক, না পাওয়া ও হারানোর ভয় তাঁদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে। সেই বাস্তবতার মধ্যেই কিছু সত্য আড়াল করে নিজেদের জন্য কিছু রঙিন মুহূর্ত তৈরি করেন তাঁরা। সেখান থেকেই এসেছে ‘রঙিন সুরমা’ নামটি।
নির্মাতা রিয়াজুল হকের ভাষ্য, সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে না। কখনো একটি মিথ্যাই মানুষকে প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ করে দেয়, কোনো সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে কিংবা জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, ধূসর জীবনের চোখে মানুষ যে সামান্য রং এঁকে নেয়, সেটিই ‘রঙিন সুরমা’।
চিত্রনাট্য পড়েই কাজটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আফসানা মিমির। তাঁর ভাষায়, ‘রঙিন সুরমা’ নামটিই প্রথমে তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। গল্পটি পড়তে শুরু করে শেষ করেছিলেন চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটি করতে পেরে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ





