
ময়মনসিংহের নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা জে এল ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিদর্শন কার্যক্রম সেরেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রাচীন জনপদ কান্দিপাড়া বাজার সংলগ্ন নয়াবাড়ি মৌজা পরিদর্শন শেষে এই বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছেন। যাতে উল্লাসে মেতেছেন আট ইউনিয়নের মানুষ।
জানা যায়, পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির ঘণ্টাব্যাপী সময় প্রস্তাবিত স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি স্থাপনা, ব্যাংক বীমা, মসজিদ, মাদ্রাসা, অবকাঠামোসহ সার্বিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এসময় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনিসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনার পরিদর্শনে আসছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোর থেকেই নয়াবাড়ি মাঠে জড়ো হন দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের ৮টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। হাতে হাতে ‘গেজেট হইছে যেইখানে, উপজেলা হবে সেইখানে’ লেখা ব্যানার-ফেস্টুন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গেজেট অনুযায়ী উস্থি ইউনিয়নের জে এলভুক্ত ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর হলে ৮ ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ সহজেই প্রশাসনিক সেবা পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের দাবি ও এলাকার বাস্তবতা আমি নিজ চোখে দেখেছি। সরকারি গেজেট, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।’ এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দ মিছিল বের করেন উপস্থিত জনতা।

স্থানীয়দের মতে, উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নং জে এলভুক্ত নয়াবাড়ি মৌজা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে সদর দপ্তর হলে আটটি ইউনিয়নের মানুষ সমান দূরত্বে সেবা পাবে। বর্তমানে গফরগাঁও সদরে কাজের জন্য যেতে যে ভোগান্তি হয়, তা থেকে মুক্তি মিলবে। উপস্থিত জনতা অবিলম্বে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নয়াবাড়ি মৌজায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার জোর দাবি জানান।
এসময় গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম আনছারউদ্দিন, গফরগাঁও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এম/এএইচ






