আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় সার্জিও গোর, আলোচনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভূরাজনীতি ও বাণিজ্য

তিনদিনের সফরে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই দুপুরে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। বেলা ২টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়। পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তাঁর এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

সার্জিও গোরের এই সফর কী শুধুমাত্র একটি রুটিন কূটনৈতিক সফর? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি এভাবে দেখার সুযোগ নেই মোটেও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কোন কাঠামোয় এগোবে, বাংলাদেশ কীভাবে তার পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঢাকার ভূমিকা কী হবে, এসব বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটন সরাসরি ধারণা নিতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সফরের প্রধান লক্ষ্যই থাকবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা নেওয়া।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সফর। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে দেশটির অবস্থান ও ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে চাইবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হতে চাইবেন সার্জিও গোর। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তাদের ‘কনসার্ন’ জানাতে পারেন। সব মিলিয়ে দুই দেশের জন্যই ভূরাজনীতি এবং বাণিজ্য-এই দুই খাত গুরুত্ব পাবে সার্জিও গোরের এবারের ঢাকা সফরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ওবায়দুল হক মনে করেন, সার্জিও গোরের এই সফর প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশকে বোঝার জন্য। উনি দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দায়িত্বে আছেন। তাকেতো সব দেশকেই বুঝতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদও বলছেন, সার্জিও গোর এই দায়িত্বে নতুন। তাই তাকে পুরো অঞ্চলের সমীকরণ বুঝতে হলে বাংলাদেশকেও বুঝতে হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতিও বাড়ছে। এগুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরাসরি ‌‘চীনবিরোধী অবস্থান’ চাপিয়ে দিতে চায় না। বরং তাদের আগ্রহ-বাংলাদেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার কী? অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে চীনের ভূমিকা কতটা? বাংলাদেশ কীভাবে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখছে?

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও সার্জিও গোরের এই সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এসব সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না একেবারেই।

এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর