আন্তর্জাতিক

ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ধসে নিহত বেড়ে ২০

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিক বলে জানিয়েছন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

সোমবার দুপুরে রাজ্যের নামচি জেলার সামারডুং ওই দুর্ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় ছিল। দু’জন কোনোমতে বের হয়ে বাঁচতে পারলেও ২৫জন টানেলের ভেতরে আটকে পড়েন। তারপর থেকে উদ্ধারের কাজ চলছে।

সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা এএফপিকে বলেন, ‘আটকে পড়া ২৫ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও সাত থেকে আটটি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাস্থলে পানি জমে থাকা এবং ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রাজীব রোকা বলেন, ‘সেখানে প্রায় আড়াই ফুট পানি জমে থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সেখানে আর কোনো ব্যক্তি জীবিত নেই।’

সম্প্রতি মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ওই অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ হয়েছে।

প্রকল্পর দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, শিলার মধ্যে আটকে থাকা বা সন্নিবেশিত সন্দেহভাজন মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণধর্মীভাবে বেরিয়ে আসায় ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়। যার ফলে সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।’

ভারতের বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পরিবেশগত দিক থেকে ঝঁকিপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে।

এরআগে ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের একটি সড়কে সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। ১৭ দিন পর তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর