
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ার্ড ও সীমানা বিন্যাসের কাজে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ধাপে ধাপে নির্বাচন শুরু করতে চায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। আইন সংশোধনের ফলে এবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না।
গত সোমবার ইসির ১২তম কমিশন সভায় অনুমোদিত সংশোধনীর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন চারটি অযোগ্যতার শর্ত সংযোজন। তবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে আলাদা কোনো বিধান আপাতত বিবেচনায় নেই। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করার সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে।
ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার তালিকায় নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করতে যাচ্ছে। বিদ্যমান আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন কোনো বাধা ছিল না। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ ছাড়া অন্য সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এগুলো সংবিধানে প্রদত্ত বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না।
এখনকার আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে তাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে বন্ধকদাতা ও গ্যারান্টার উভয়কেই অযোগ্য করার প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে কমিশন। একইভাবে বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিল খেলাপি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক এগুলোকেও অযোগ্যতার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি।
আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপিতে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান রেখে আইন সংশোধন করে। সেই আইন সংশোধন করে এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুবাইদা নাসরীন মনে করেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলকেন্দ্রিক প্রভাব সব সময় ছিল। সেই প্রভাব এবার থাকবে না, সরকারি দলের আধিপত্য থাকবে না, এটি কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘এখনো সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনাও আসেনি। কোনো পরিকল্পনা-কৌশলও জানতে পারিনি।’
এম/এএইচ






