দেশজুড়ে

সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদ শতবর্ষী কালভার্ট

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার বটতলির মোড়ে অবস্থিত শতবর্ষী একটি কালভার্ট এখন স্থানীয় মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় কালভার্টটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অথচ প্রতিদিন দিন-রাত হাজারো যানবাহন চলাচল করছে এর ওপর দিয়ে। যেকোনো সময় কালভার্টটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পাকিস্তান আমলে নির্মিত সড়কের কালভার্ট
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে সান্তাহার জংশন শহরের সঙ্গে নওগাঁ জেলা শহরের যোগাযোগ সহজ করতে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। শহরের পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে সড়কটির সান্তাহার অংশের বটতলির মোড় ও পশ্চিম ঢাকা রোড এলাকায় দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ব্রিটিশ আমলে সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৭-৬৮ সালে সড়কটি আধুনিকায়ন করা হয়। ওই সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ কালভার্ট ভেঙে প্রশস্ত ও নতুন করে নির্মাণ করা হলেও বটতলির মোড়ের কালভার্টটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।

একই সড়কের আরেক কালভার্ট ভেঙে পড়েছে
২০২৩ সালে পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ভেঙে পড়ে। পরে যান চলাচল সচল রাখতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেখানে সাময়িকভাবে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। ওই ঘটনার পর সান্তাহার নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বটতলির মোড়ের কালভার্টটিও ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সে সময় সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সওজ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বটতলির মোড়ের কালভার্টটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত এর অবস্থা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।

ভারী যানবাহন চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
সান্তাহার শহরের অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ কালভার্টের ওপর দিয়ে অসংখ্য যানবাহন নওগাঁর দিকে চলাচল করে। এর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহনও যাতায়াত করে। কালভার্টটি অত্যন্ত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি দ্রুত পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সান্তাহার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ খান জানান, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সড়কটি সওজ বিভাগের অধীন হওয়ায় পৌরসভার পক্ষে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে সওজ বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

দাবি জানিয়েও মেলেনি সমাধান
সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি চিকিৎসক হামিদুর রহমান বলেন, কালভার্টটির ঝুঁকির বিষয়টি আগেও নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সওজ বিভাগকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কালভার্টটি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় এটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সময়ে নির্মিত পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। তাই দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত বটতলির মোড়ের কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।

দ্রুত পরিদর্শনের আশ্বাস সওজের
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেদুল হক বলেন, কালভার্টটি পরিদর্শনের জন্য তাদের দপ্তর থেকে দ্রুত লোক পাঠানো হবে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, কালভার্টটির বিষয়ে জানার পর দ্রুত নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আগে কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর