দেশের জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
যাত্রীকল্যাণের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। সড়ক পথে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫১, আহত ১০৪৬।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী এবং ৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
১. মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
২. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।
৩. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং চালকের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা।
৪. সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ও রোড সাইন না থাকা।
৫. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে খোলা ট্রাক ও বাসের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত।
মালিক সমিতির প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল মূলত বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত।
তিনি আরও বলেন, ঈদ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা মালিকদের একচেটিয়া সুবিধা নিতে সাহায্য করেছে।
দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে:
১. সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো| ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতির চালু করা।
২. মোটরসাইকল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধ চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
৪. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান।
৫. বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টা ইনকুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ
করা।
৬. পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সিমিতির একেচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
৭. গুরুৃতৃূপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৮. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকেদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৯. মহাসড়েক ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
১০. উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১১. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১২. সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউিনট চালু করা।
১৩. ঈদযাত্রা একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্যমেয়াদি নানা
পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকা উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবি জানানো হয়।
সন্ধানী বার্তা/জেএন