মাছের পেটে ডিম পাওয়ার আশায় মাছ কাটতে গিয়ে বেরিয়ে এলো একটি নাট-বল্টু ও দুটি মসৃণ লোহার খণ্ড। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার দোহার উপজেলার থানার মোড় মাছবাজার থেকে কেনা একটি আইর মাছের ক্ষেত্রে। মাছের পেটে এসব বস্তু কীভাবে এলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও সন্দেহ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে মাছটি কেনেন দোহারের বটিয়া এলাকার বাসিন্দা সুইটি আক্তার। পরে মাছের পেট থেকে লোহার বস্তুগুলো বের হলে তিনি দোহার থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন।
সুইটি আক্তার জানান, সকালে থানার মোড় মাছবাজার থেকে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি আইর মাছ কেনেন তিনি। মাছ কাটার সময় পেটের ভেতর থেকে একটি ছোট নাট-বল্টু ও দুটি ছোট লোহার খণ্ড বেরিয়ে আসে। তিনটি বস্তুর মোট ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম।
সুইটি আক্তার বলেন, ‘ভেবেছিলাম মাছের পেট থেকে বড় বড় ডিম বের হবে; কিন্তু বের হলো লোহার খণ্ড! মাছের পেটে এগুলো কীভাবে এলো, তা বুঝতে পারছি না।’
ঘটনাটি জানার পর দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর উপপরিদর্শক (এসআই) আশিকুরকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি মাছ বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মাছ বিক্রেতা আকাশ প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি বান্দুরা বাজারের নিখিলের আড়ত থেকে মাছটি কিনে থানার মোড় বাজারে বিক্রি করেছেন। মাছের পেটে লোহার বস্তু থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্রেতাকে মাছের পুরো দাম ফেরত দিয়েছেন।
পরে মুচলেকা নিয়ে বাজার কমিটির জিম্মায় মাছ বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বান্দুরা বাজারের আড়তদার নিখিলও মাছের পেটে ইচ্ছাকৃতভাবে লোহা ভরে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে রাঙামাটি থেকে আনা আইর মাছ বিক্রি করছেন। তাঁর ধারণা, রাক্ষুসে স্বভাবের মাছটি খাবার ভেবে কোনো বস্তু গিলে ফেলতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থানার মোড় বাজারের নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ক্রেতা করিম বেপারী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। এটা মাছের স্বাভাবিক আচরণ, নাকি ওজন বাড়ানোর জন্য কেউ এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
মাছের পেটে লোহার বস্তুগুলো কীভাবে এলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাছের ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বস্তুগুলো ঢুকিয়েছেন, নাকি মাছটি স্বাভাবিকভাবে সেগুলো গিলে ফেলেছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি