রাজধানী

চুরি-ছিনতাই-হত্যা বেড়েছে, সরকারের ব্যর্থতা দেখছে লেবার পার্টি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথভাবে পরিচালনা করতে না পারার কারণে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ যুব মিশনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ চুরির আশঙ্কায় রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গরু-বাছুর ও হাঁস-মুরগি চুরি ঠেকাতে মানুষকে রাতভর নিজেদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির পাশে অবস্থান করতে হচ্ছে। স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জন্য এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়াচ্ছে। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব মিশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সালমান খান বাদশা। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মাদক নির্মূল এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।

সালমান খান বাদশা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ যুব মিশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা, কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে সামাজিক অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় আরও বক্তব্য দেন যুব মিশনের কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম সোহাগ, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল ইসলাম সজীব, সাংগঠনিক সচিব মো. সাদ্দাম হোসেন এবং মহানগর সদস্য মো. আদেল উদ্দীন।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর