২০১০ সাল থেকে স্বল্প দূরত্বে উন্নত যাত্রীসেবার লক্ষ্যে ডেমু ট্রেনের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। এরপর চীন থেকে কেনা হয় ২০টি ডেমু ট্রেন। এসব ট্রেনের ব্যয় ছিল ৬৫৪ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি ঢাকঢোল পিটিয়ে ডেমু ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়। এসব ডেমু ট্রেন মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই বিকল হতে শুরু করে। এরপর ১ মাস চালু থাকলে ২ মাস অচল পড়ে থাকে। এই অবস্থায় ছিল কয়েক বছর ধরে। নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষক্ষ জনবল ছিল না ডেমু পরিচালনায়। এখন ২০ সেট ডেমু ট্রেনের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ের ওয়ার্কশপ। কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে সেখানে। অন্তত তিন বছর আগেই স্থায়ীভাবে অচল হয়ে পড়ে সব ট্রেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় ট্রেনগুলো থেকে ভালো সার্ভিস পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই কিংবা কার্যকর সমীক্ষা করা হয়নি ডেমু কেনার ক্ষেত্রে। যাত্রীদের জন্য কতটুকু উপকার হবে তাও যাচাই করা হয়নি। যাত্রী উপকারের চেয়ে কেনাকাটায় কমিশনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ৬৫০ কোটির ডেমু ট্রেন থেকে কোনো ফলাফল মেলেনি।
রেলওয়ে যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, ডেমু ট্রেন চালুর পর থেকে বড় ধরনের ত্রুটির আভাস মিলেছিল। কয়েক বছরের মধ্যে ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হয়। তা ছাড়া ইঞ্জিন অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। যান্ত্রিক এসব সমস্যা এক পর্যায়ে চরমে পৌঁছে। এরপর ট্রেনগুলো একে একে বিকল হতে থাকে। কেনার আগে সমীক্ষায় বলা হয়েছিল ডেমু ট্রেনের দুদিকেই ইঞ্জিন থাকায় আলাদা ইঞ্জিনের দরকার হবে না। বডি হালকা হওয়ায় জ্বালানিও লাগবে কম। সহজেই কম-বেশি করা যাবে গতি ঝাঁকুনিও হবে কম। স্বল্প দূরত্বে ট্রেনগুলো পরিচালনা করে প্রচুর যাত্রী পরিবহন করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে এসব স্বপ্নই থেকে গেছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের আমলে কেনা হয় ডেমু ট্রেন। এসব ট্রেন চলাচল শুরুর অল্প দিনের মধ্যে দেখা যায় ভালো ফল মিলছে না। এসব ট্রেন পরিচালনা করে লাভের পরিবর্তে বিপুল অর্থ গচ্চা দিয়ে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এই প্রকল্পে সুফল না মেলার পর আবার লাগেজ ভ্যান কেনা হয়। একই প্রক্রিয়ায়। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই কেনা হয় এসব লাগেজ ভ্যান। যার কারণে রেলওয়ে বিপুল অর্থ গচ্চা দিচ্ছে। অথচ আমাদের কেনা দরকার বগি কোচ ও ট্রেন ইঞ্জিন। এসব সংকট এখনও দূর হয়নি। কর্মকর্তারা আছেন কেনাকাটার কমিশন ভাগাভাগিতে।
ডেমু ট্রেনের ভবিষ্যৎ কী এ প্রশ্নে রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন- এসব ট্রেন আর চলছে না। বেশিরভাগ পড়ে আছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায়। ভবিষ্যতে ফের সচল করা যাবে কি না এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। ট্রেনগুলো স্বল্প দূরত্বের বলা হলেও দীর্ঘপথে এমনকি চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত চালানো হয়েছে। এতে কারিগরি ত্রুটি বেড়েছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ডেমু ট্রেনগুলো স্বল্প দূরত্বেই পরিচালিত হয়। তবে কিছু কিছু ট্রেন দীর্ঘপথে চালানো হয়। এ জন্য কারিগরি ত্রুটি হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।
সন্ধানী বার্তা/এম/এএইচ