হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স। তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪তম ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে আইআরজিসি। পরে সেটিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪তম এমকিউ-৯ ড্রোন, যা তাদের বাহিনী ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি ঠিক কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, সেটি কোন মিশনে নিয়োজিত ছিল এবং ঘটনার সময় এটি কোন দেশের আকাশসীমায় অবস্থান করছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের এই দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
কতটা শক্তিশালী মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন
এমকিউ-৯ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক চালকবিহীন আকাশযান। জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস নির্মিত এই ড্রোন মূলত দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। ড্রোনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করার সক্ষমতা। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে এটি প্রায় ২৭ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ পরিচালন উচ্চতা প্রায় ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া এতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও লেজার-নির্দেশিত বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহন করা সম্ভব। একটি এমকিউ-৯ ড্রোনের দাম সংস্করণ ও সরঞ্জামভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে এর আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি মার্কিন ডলার। ফলে এমন একটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সামরিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়। পরবর্তী সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।
নৌ চলাচল নিয়ে সমঝোতা বাস্তবায়নে অচলাবস্থা
এরপর জুনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়ন থমকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ইরানের দাবি দুই দেশের চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন দিক সামনে এনেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত এবং ড্রোন হারানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সন্ধানী বার্তা/এমএএইচ/এসএ