দেশজুড়ে

বেনাপোল সীমান্তে আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ছে আখ চাষ। বাজারে চাহিদা ও ভালো দামের প্রত্যাশায় ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সারি সারি আখগাছ। লাভজনক এই ফসল ঘিরে অনেক কৃষক পরিবারে ফিরছে স্বচ্ছলতা।

সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকরা আখের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কোথাও পরিপক্ব আখ কেটে বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় হাট-বাজারের পাশাপাশি পাইকাররাও কৃষকের জমি থেকে আখ কিনে নিচ্ছেন। এতে উৎপাদিত আখ বিক্রি নিয়ে কৃষকদের তেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

পুটখালী গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় আখ চাষে পরিচর্যার ধরন তুলনামূলক সহজ। একই জমিতে দীর্ঘ সময় ফসল থাকায় অনেকে এটিকে নিরাপদ আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা। তবে এক বিঘা জমিতে আখ চাষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

আখচাষি কলম মিয়া বলেন, আখ চাষে পরিশ্রম থাকলেও ভালো ফলন হলে লাভও ভালো হয়। বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে পরিবারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব। তিনি এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন, এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, আগে তিনি জমিতে অন্য ফসল চাষ করতেন। কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করছেন। বাজারে চাহিদা থাকায় আখ বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। কৃষি উপকরণের দাম কমানো গেলে আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করা সম্ভব হবে। তিনি ১ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে আখ চাষ করেছেন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘গ্যান্ডারি’, ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’সহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হচ্ছে। কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষ, উন্নত জাতের চারা, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি উৎপাদিত আখের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজার স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় আখের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর