বিনোদন

শতবর্ষে নূরজাহান: শিশুশিল্পী থেকে ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’

একসময় তাঁর কণ্ঠ শুনে পরিবারের একজন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—এই মেয়েই একদিন পরিবারের ভাগ্য বদলে দেবে। কথাটি যে এত দ্রুত সত্যি হবে, তখন হয়তো কেউ ভাবেননি। মাত্র ছয় বছর বয়সে সংগীতের তালিম নেওয়া সেই মেয়েটিই কয়েক বছরের মধ্যে মঞ্চে উঠলেন, শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে এলেন, পরে হয়ে উঠলেন জনপ্রিয় নায়িকা। মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতে এমন সাফল্য পেলেন যে দেশভাগের সময় ভারত ছাড়ার সময় পেছনে রেখে গেলেন প্রতিষ্ঠিত এক তারকার জীবন।

কিন্তু তাঁর গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় তখনো বাকি ছিল।

নতুন দেশ পাকিস্তানে গিয়ে তাঁকে আবার শুরু করতে হয়েছিল। দেশটি তখন নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার সংগ্রামে। নূরজাহান সেখানে শুধু গান গাওয়া কিংবা অভিনয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রযোজনা করেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হয়েছেন, পরিচালনায় এসেছেন, নিজের পারিশ্রমিক নিজেই নির্ধারণ করেছেন। পরে অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি মন দেন সংগীতে।

আর সেই সংগীতই তাঁকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’—সুরের রানি।

আজ নূরজাহানের জন্মের ১০০ বছর। ১৯২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের কাসুরে জন্মেছিলেন তিনি। সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পরবর্তী সময়ে শুধু পাকিস্তানের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও চলচ্চিত্র ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন।

ছয় বছর বয়সে সংগীতের হাতেখড়ি

নূরজাহানের জন্ম এমন একটি পরিবারে, যেখানে গান ছিল দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। তাঁর বাবা মাদাদ আলী সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের আরও কয়েকজন নারী মঞ্চে কাজ করতেন। ছোট বয়সেই নূরজাহানের কণ্ঠে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

মাত্র ছয় বছর বয়সে শুরু হয় তাঁর সংগীতের তালিম। পরে কলকাতায় গিয়ে সংগীতের আরও বড় পরিসর পান তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে তখনই পরিচিতি তৈরি হয় ‘বেবি নূরজাহান’ নামে।

মঞ্চ ও চলচ্চিত্র—দুই জায়গাতেই অল্প বয়সে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৩৫ সালের পিন্ড দি কুড়ি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এরপর পাঞ্জাবি ও উর্দু চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ বাড়তে থাকে।

যে বয়সে অন্য শিশুরা স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই নূরজাহান স্টুডিও, মঞ্চ, রেকর্ডিং ও ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করেছিলেন।

১৯৩৮ সালে গুল বাকাওলি ছবির জন্য গান রেকর্ড করেন তিনি। চলচ্চিত্রের জন্য তাঁর শুরুর দিককার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

মুম্বাইয়ে তারকা হয়ে ওঠা

কলকাতার পর নূরজাহানের ক্যারিয়ার তাঁকে নিয়ে যায় লাহোর ও মুম্বাইয়ে। চল্লিশের দশকে মুম্বাই ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে গিয়ে আর শিশুশিল্পী হিসেবে থেমে থাকেননি তিনি; হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ নায়িকা ও গায়িকা।

১৯৪২ সালের খানদান তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর গানের জনপ্রিয়তাও তাঁকে দ্রুত বড় তারকায় পরিণত করে।

এরপর একে একে আসে জিনাত, আনমোল ঘড়িজুগনু-এর মতো চলচ্চিত্র।

১৯৪৫ সালের জিনাত-এর ‘বুলবুলো মাত রো’ গানটি তাঁকে বিশেষভাবে আলোচনায় নিয়ে আসে। অন্যদিকে আনমোল ঘড়িতে অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে।

১৯৪৭ সালের জুগনুতে দিলীপ কুমারের বিপরীতে অভিনয় তাঁকে তৎকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন করে তোলে।

দেশভাগে বদলে গেল জীবন

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলো। লাখ লাখ মানুষের মতো নূরজাহানের জীবনও বদলে গেল রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

স্বামী ও চলচ্চিত্র পরিচালক শওকত হুসেইন রিজভিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান।

তখন পাকিস্তানের নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্প খুবই নবীন। দেশভাগের কারণে শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ, প্রযোজক ও অর্থ—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। লাহোরকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চললেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছিল সীমিত।

নূরজাহান সেখানে গিয়ে আবার শুরু করলেন।

তবে এবার তিনি শুধু শিল্পী ছিলেন না। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল চলচ্চিত্র কীভাবে তৈরি হয়, তারকা কীভাবে গড়ে ওঠে এবং দর্শকের কাছে একটি চলচ্চিত্রকে কীভাবে পৌঁছে দিতে হয়।

১৯৫১ সালে মুক্তি পায় চানভে। এতে নূরজাহান অভিনয় ও সংগীতের পাশাপাশি পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রথম নারী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

নায়িকা থেকে কণ্ঠের সম্রাজ্ঞী

চানভে-এর পর দুপাট্টা, পাতে খান, ইন্তেজার, আনারকলিকোয়েল-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নূরজাহান।

তবে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি বুঝতে শুরু করেন, পর্দায় অভিনয়ের চেয়ে তাঁর কণ্ঠের জন্য মানুষের অপেক্ষা বেশি। শেষ পর্যন্ত অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি সংগীতে মন দেন।

১৯৫৯ সালের পর তাঁর অভিনয়জীবন কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন মূলত প্লেব্যাক ও গজলশিল্পী।

নায়িকার ঠোঁটে গান থাকলেও দর্শকের কাছে সেই গানের আবেগকে আলাদা মাত্রা দিত নূরজাহানের কণ্ঠ। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠই হয়ে ওঠে পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

নিজের পারিশ্রমিক নিজেই ঠিক করতেন

নূরজাহানের ব্যক্তিত্বের একটি দিক ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাস। পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে যখন অনেক গায়িকা একটি গানের জন্য প্রায় ৩৫০ রুপি পারিশ্রমিক পেতেন, নূরজাহান দাবি করতেন প্রায় ২ হাজার রুপি।

অর্থাৎ অন্যদের তুলনায় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল কয়েক গুণ বেশি।

তাঁর কাছে এটি শুধু জনপ্রিয়তার বিষয় ছিল না; নিজের শিল্পের মূল্য সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট ছিলেন। তিনি জানতেন, একটি চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠ দর্শক টানার অন্যতম কারণ হতে পারে।

নিজের স্টুডিও ও কাজের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা অন্য সহকর্মী—কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান নিয়ে আপস করতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না তিনি।

ব্যক্তিজীবনেও ছিল নানা বাঁক

নূরজাহানের ব্যক্তিজীবনও ছিল ঘটনাবহুল।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্র পরিচালক শওকত হুসেইন রিজভিকে বিয়ে করেন তিনি। দুজনের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কও জড়িয়ে ছিল। তাঁদের সংসারে সন্তান আসে। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

১৯৫৯ সালে অভিনেতা এজাজ দুররানিকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন নূরজাহান। এরপর তাঁর অভিনয়জীবনও শেষের দিকে চলে আসে।

তবে পর্দা থেকে সরে গেলেও সংগীত থেকে সরে যাননি তিনি। বরং এরপরই তাঁর কণ্ঠ আরও স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়।

ছয় সন্তানের মা হয়েও নিজের পেশাগত পরিচয়কে আলাদা করে রেখেছিলেন নূরজাহান। পরিবার ও কাজ—দুটিই নিজের মতো করে সামলানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

ফয়েজের কবিতা, নূরজাহানের কণ্ঠ

নূরজাহানের কণ্ঠের বড় শক্তি ছিল শুধু সুর নয়, শব্দের আবেগও তুলে ধরতে পারা। এ কারণেই কবিদের সঙ্গে তাঁর কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের ‘মুঝসে পেহলি সি মোহাব্বত’ তাঁর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পেয়েছিল। প্রেম, হতাশা ও সামাজিক বোধ—সবকিছুই তাঁর গায়কিতে আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল।

প্রেমের গান, বিরহ, গজল, লোকগীতি কিংবা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক গান—বিভিন্ন ধারায় নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন নূরজাহান।

যুদ্ধের সময় কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল জাতীয় আবেগের প্রতীক

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় নূরজাহানের কণ্ঠ নতুন এক ভূমিকা নেয়। রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান দিয়ে তিনি পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে যুদ্ধকালীন আবেগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালন করেন।

সেই সময় তাঁর গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সংগীত-ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

নূরজাহানের কণ্ঠ তখন আর শুধু চলচ্চিত্রের নায়িকার কণ্ঠ ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল জাতীয় আবেগ প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

লতা মঙ্গেশকরের আদর্শ

ভারত ও পাকিস্তানের সংগীত ইতিহাসে নূরজাহান ও লতা মঙ্গেশকরের নাম প্রায় পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে।

দুজনকে নিয়ে বহুবার তুলনা হলেও নূরজাহানের প্রতি লতা মঙ্গেশকরের শ্রদ্ধা ছিল প্রকাশ্য। লতা জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকে নূরজাহানের গান শুনে তিনি বড় হয়েছেন এবং নূরজাহান তাঁর আদর্শ ছিলেন।

দেশভাগের পর দুই শিল্পীর ক্যারিয়ার দুই দেশে আলাদা পথে এগোলেও একজনের শিল্প অন্যজনের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থেকেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ফেরেন

দেশভাগের কয়েক দশক পর ১৯৮২ সালে ভারতে গিয়েছিলেন নূরজাহান। এটি ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য সীমান্তপারের সফরগুলোর একটি।

তত দিনে পাকিস্তানে তিনি কিংবদন্তি। কিন্তু ভারতে তাঁর পুরোনো শ্রোতাদের স্মৃতিও তখনো অমলিন ছিল।

যে মুম্বাই একসময় তাঁকে তারকা বানিয়েছিল, যে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল সময় কাটিয়েছিলেন, কয়েক দশক পর সেই ভূখণ্ডে ফিরলেন তিনি অন্য পরিচয়ে—পাকিস্তানের ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’ হিসেবে।

প্রায় ১০ হাজার গানের কিংবদন্তি

নূরজাহানের মোট গানের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। কোথাও কয়েক হাজার, আবার কোথাও প্রায় ১০ হাজার গানের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি সরকারি সূত্রেও প্রায় ১০ হাজার গানের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও তাঁর কণ্ঠের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন নেই। উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি।

তাঁর বিশেষত্ব ছিল—তিনি শুধু গান গাইতেন না, গানের চরিত্র ও আবেগকেও নিজের কণ্ঠে ধারণ করতেন। এ কারণেই তাঁর বহু পুরোনো গান আজও নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে ফিরে আসে।

শেষ পর্যন্ত সংগীতের সঙ্গেই

জীবনের শেষ দশকেও সংগীত থেকে দূরে যাননি নূরজাহান। ১৯৯৬ সালে তাঁর শেষ রেকর্ডিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে।

অর্থাৎ ছয় বছর বয়সে যে সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল, জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

২০০০ সালের ২৩ ডিসেম্বর করাচিতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নূরজাহান। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

একজন সংগীতশিল্পীর পরিবারের ছোট্ট মেয়ে থেকে শিশুশিল্পী, সেখান থেকে মুম্বাইয়ের নায়িকা; দেশভাগে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত; নতুন দেশে গিয়ে আবার নিজের সাম্রাজ্য তৈরি—নূরজাহানের জীবন যেন নিজেই একটি দীর্ঘ চলচ্চিত্র।

তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কোনো একটি চলচ্চিত্র বা গান নয়। তাঁর কণ্ঠ, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সময়ের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার গল্পই তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

আজ জন্মের শতবর্ষে তাই নূরজাহান শুধু একটি নাম নন—তিনি উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রের এক দীর্ঘ ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক।

সন্ধানী বার্তা /এসএ


সম্পর্কিত খবর