দেশজুড়ে

চিত্রাপাড়ের গোলফলে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনে গোলফল ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক গোলগাছ থেকে ফল সংগ্রহের পাশাপাশি রস দিয়ে উন্নতমানের গুড় তৈরি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।

সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এর মধ্যে গোলগাছের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে গোলফলের কাঁদি।

স্থানীয়রা জানান, গোলফল দেখতে ও খেতে অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। দিন দিন গ্রামের বাইরেও এ ফলের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি গোলফলের কাঁদি থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করা যায়। সুন্দরবন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় গোলের গুড় তৈরি করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির বলেন, চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনার অনেক দিক রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ বনের গোলগাছ থেকে গুড় তৈরি করাসহ নানাভাবে আয় করা সম্ভব। তবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, গোলফল অনেকের কাছে প্রিয় খাবার। এর ভেতরের শাঁসের স্বাদও ভিন্ন। গোল থেকে খাঁটি রস সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ অঞ্চলে কৃষি অফিসের মাধ্যমে গোলের গুড় তৈরিতে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চিত্রাপাড়ের কেউ বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় তৈরি করতে চাইলে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর