জাতীয়

যানজটের জট খুলতে এবার ‘১৫ দিন’ পরপর সমন্বয় সভা

রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সব উন্নয়ন সংস্থাকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীতব্য মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনকে নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মকর্তা পর্যায়ে একটি সাব-কমিটির মাধ্যমেও নিয়মিত যোগাযোগ ও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে-রাজধানীর যানজট শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সংকট নয়। এটি অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, একাধিক সংস্থার অসমন্বিত উন্নয়নকাজ, গণপরিবহনের চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ছোট যানবাহনের সম্মিলিত ফলও এর পেছনে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগটির বড় তাৎপর্য হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনাকে আলাদা না রেখে একটি অভিন্ন সমন্বয় কাঠামোয় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি ১৫ দিনের সভা এই ধারাবাহিকতার কার্যকর এক পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে সমন্বয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সব উন্নয়নমূলক কাজ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থা কাজ শেষ করার পর একই স্থানে আরেক সংস্থা যাতে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় রাস্তা খোঁড়ার প্রবণতা বাড়ায় একই সময়ে ইউটিলিটি শিফটিং ও অন্যান্য নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলমান এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকল্প তদারকিতে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, উন্নয়নকাজ থামানো নয়; বরং কাজের মধ্যে সমন্বয় এনে নগরবাসীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমানো।

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা ও রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকল্পনার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে যানজটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে নীতিমালার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলায় আনা হচ্ছে। কাউকে আকস্মিকভাবে কর্মহীন না করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং বহু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলায়ও সতর্ক বার্তা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ও আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই সম্ভাব্য সূচিকে এখনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী শক্তির দুষ্কৃতকারীরা এসব ঘটনার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। গুলশান ও হাইকোর্ট এলাকায় সংঘটিত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিহত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর