বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছানোর পর ষষ্ঠ তলায় ওঠার সময় লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীরাও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠেন। একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ঘটনা হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে এটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।
কারণ, একজন সরকারপ্রধানের প্রতিটি প্রকাশ্য আচরণই অনেক সময় তাঁর কাজের ধরন ও জনসম্পৃক্ততার প্রতীকী বার্তা বহন করে। লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি ব্যবহারকে তাই কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস হিসেবে দেখার পাশাপাশি তাঁর সরল ও সরাসরি কর্মপদ্ধতির একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশের কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ বৈঠককে নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব—এসব প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা নানাবিধ তথ্য ও প্রস্তাব তুলে ধরছেন এবং সেখান থেকে কী ধরনের নির্দেশনা আসছে, সেটিই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টি নির্ভর করবে। সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় ওঠার ঘটনাটি তাই দিনের আলোচিত একটি দৃশ্য। ভিআইপি প্রটোকল মেনে সাধারণত সচিবালয়ে লিফট ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হলেও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান এবং হেঁটে ষষ্ঠ তলায় পৌঁছান। আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—কৃষি খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ।

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে একের পর এক প্রথাভাঙা কর্মকাণ্ড করছেন তারেক রহমান। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে জনসমাবেশে যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি একাধিকবার প্রথাগত ভিআইপি প্রটোকল এড়িয়ে বাসে যোগ দিচ্ছেন। ঢাকায় চলাচলেও অতীতের প্রধানমন্ত্রীর মতো থাকে না রাস্তায় কড়াকড়ি। চলার পথে নিয়মিতই পথচারীদের সঙ্গে করেন সালাম বিনিময়।
কালের আলো/এম/এএইচ