আন্তর্জাতিক

৪০ বছর আগে নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে লেবাননে ইসরায়েলি কমান্ডো অভিযান, নিহত ৪১

চার দশক আগে নিখোঁজ হওয়া এক ইসরায়েলি সেনার দেহাবশেষের খোঁজে লেবাননের একটি গ্রামে কমান্ডো অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না মিললেও পরবর্তী বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিখোঁজ ইসরায়েলি পাইলট রন আরাদের দেহাবশেষের সন্ধানে লেবাননের নবী চিত গ্রামে একটি কবর খনন করে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, কবর খুঁড়েও সেখানে কোনো দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।

 

অভিযান ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে নিজেদের কমান্ডো দলকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ওই এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

খবরে বলা হয়, প্রায় ৪০টি বিমান হামলার ফলে গ্রামের বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং লেবাননের তিন সেনাসদস্যও রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও লেবাননের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা লেবাননের সেনাবাহিনীর পোশাক পরে এবং হিজবুল্লাহর স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করে গ্রামে প্রবেশ করেছিল। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

অভিযানে ইসরায়েলের কোনো সেনা হতাহত না হলেও দেশটির ভেতরেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নিখোঁজ পাইলট রন আরাদের স্ত্রী তামি আরাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মৃতদেহ উদ্ধারের চেয়ে জীবিত সৈনিকদের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের জন্য আর কোনো সেনার জীবন ঝুঁকিতে পড়ুক তা তারা চান না। 

এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) থেকে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯৪ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নবী চিত গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিহতদের বড় একটি অংশই বেসামরিক নাগরিক, যাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না।

সূত্র: বিবিসি

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর