হৃদয় আলোকিত করা আজান-কেরাতের সুর। দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে পুলিশের বিজয়ী প্রতিযোগীদের শ্রেষ্ঠত্বের জয়ধ্বনি। সুউচ্চ, সুমধুর ও সুললিত কণ্ঠস্বরে তাদের পদচারণ তখন শান্তির কাননে। এমন সুমধুর কলতান শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ববহ। ইসলামি সমাজের বড়ত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রকাশের এই বিশেষ দিকটি শুক্রবার (০৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র মাহে রমজানে তৈরি করলো নতুন ভাব-আবেগের।
পুলিশ সদস্যদের শুদ্ধ উচ্চারণ ও সুললিত কণ্ঠে আজান ও কেরাত চর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আজান, কেরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় নির্দেশনা প্রতিপালনই নয় বরং মুসলিম উম্মাহর হাজার বছরের অনুপম সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রতিচ্ছবিও ফুটে ওঠে। চলতি বছরে বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক আজান, কেরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মাঝে জ্ঞান ও ধর্মীয় চর্চার অনুশীলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ এর রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিম। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্যরা এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লী উপস্থিত ছিলেন।
আজান ও কেরাত একটি ঈর্ষণীয় আমল। এ দু’য়ের ছন্দ যেমন প্রাণকে আন্দোলিত করে, সুরও তেমনি হৃদয়ে উচ্ছ্বাস জাগায় এবং প্রাণিত করে। সুর ও ছন্দের দারুণ সমন্বয় ঘটে প্রতিযোগিতায়। সুউচ্চ, সুমধুর ও সুললিত কণ্ঠস্বর মনকে ছুঁয়ে যায় গভীরভাবে। প্রতিযোগিতায় আজানে প্রথম হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার কনস্টেবল মো. মনিরুল ইসলাম। সুললিত কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সুমধুর বাণী। আজানে প্রথম স্থান অর্জন করা মনিরুলের মোহনীয় সুর যেন ঈমানের জোয়ার বয়ে দিলো প্রতিটি প্রাণে। ছত্রে ছত্রে যেন উচ্চারিত হলো আল্লাহর বড়ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা।
দ্বিতীয় হয়েছেন ৩ এপিবিএন’র নায়েক আবু মুসা এবং তৃতীয় হয়েছেন আরএমপি, রাজশাহীর এএসআই (সশস্ত্র) মো. ওমর ফারুক। হৃদয়কাড়া ছন্দের ঝংকার তুলে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করলেন কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগ, ঢাকার লিনেন কিপার মোঃ আব্দুল আউয়ালও। কেরাতে দ্বিতীয় হয়েছেন ৩ এপিবিএন’র নায়েক আবু মুসা এবং তৃতীয় হয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসের কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা ঢাকায় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক আজান, কেরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার অনিন্দ্যসুন্দর এই আয়োজনে বিজয়ী থেকে শুরু করে সব প্রতিযোগীদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। একজন ভালো মুসলমানের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের আদর্শ অনুসরণ করা জরুরি এই মর্মবাণীও উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় সকল পুলিশ ইউনিট থেকে পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন। আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন লালনের মাধ্যমে নৈতিকতা ও সদাচরণ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর পুলিশ সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করে থাকে।’ আইজিপি আইনি সুরক্ষা, ন্যায়বিচার ও সদাচরণের মাধ্যমে জনগণকে সেবা প্রদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ প্রধান এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। পরে আইজিপি বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, হামদ ও নাতে প্রথম হয়েছেন, ১১ এপিবিএন’র নারী কনস্টেবল নাদিয়া নাছরিন নূপুর, দ্বিতীয় হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নায়েক মোঃ রাকিবুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন বিএমপি, বরিশালের কনস্টেবল এস এম মশিউর রহমান। ‘নাগরিক হয়রানি বন্ধে ইসলাম’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার কনস্টেবল জুনায়েদ বিন মর্তুজ, দ্বিতীয় হয়েছেন ৪ এপিবিএন’র কনস্টেবল আ ম মোঃ উমর ফারুক বায়েজিদ এবং তৃতীয় হয়েছেন আরআরএফ, রংপুরের নারী কনস্টেবল মোছা. এসমোতারা খাতুন।
সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে