বিনোদন

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্ল্যাকপিংক এর চার সদস্য একসঙ্গে

২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ গান দিয়ে কে-পপের দুনিয়ায় যাত্রা শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গার্ল গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দলটির পথচলার এক দশক পূর্ণ হলো। বিশেষ এই দিনটি একসঙ্গে উদ্‌যাপন করছেন জিসু, জেনি, রোজে ও লিসা।

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ভক্তদের সঙ্গে ছোট পরিসরে দেখা করার আয়োজন করেছে ব্ল্যাকপিংক। অনুষ্ঠানের স্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচিত ৪০ জন ভক্ত এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেখানে চার সদস্যেরই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ভক্তদের সামনে দীর্ঘ সময় পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে ব্ল্যাকপিংকের চার সদস্যকে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিউলের উপকণ্ঠ গোয়াংয়ে ‘ডেডলাইন’ বিশ্বভ্রমণের একটি কনসার্টে একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন তাঁরা।

দশ বছরের পথচলায় ব্ল্যাকপিংক শুধু কে-পপেই নয়, আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি ফ্যাশন, বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ও বিজ্ঞাপনের জগতেও চার সদস্যের আলাদা প্রভাব তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘বর্ন পিংক’ ব্ল্যাকপিংকের ক্যারিয়ারে বড় মাইলফলক হয়ে আসে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে ওঠে। এর মাধ্যমে কোনো নারী কে-পপ শিল্পীর অ্যালবাম হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করে দলটি। যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল অ্যালবাম চার্টেও শীর্ষস্থান দখল করে ‘বর্ন পিংক’।

দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রকল্প হিসেবে তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’ প্রকাশ করে ব্ল্যাকপিংক। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এ অষ্টম অবস্থান অর্জন করে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে ব্ল্যাকপিংক। দল হিসেবে চার সদস্যই ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি বজায় রাখলেও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা।

জেনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রতিষ্ঠান অড অ্যাটেলিয়ার। লিসা শুরু করেন লাউড। জিসু প্রতিষ্ঠা করেন ব্লিসু। অন্যদিকে রোজে যুক্ত হন দ্য ব্ল্যাক লেবেলের সঙ্গে।

একক ক্যারিয়ারেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন চার শিল্পী। রোজে ও ব্রুনো মার্সের ‘আপাতে’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটির মাধ্যমে রোজে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পাওয়া প্রথম কে-পপ শিল্পী হন।

জেনির প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ তাঁর একক শিল্পী হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত করে। টেম ইমপালার সঙ্গে করা ‘ড্রাকুলা’ গানটিও জায়গা করে নেয় বিলবোর্ড হট ১০০-এ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজেদের পরিচিতি বাড়িয়েছেন ব্ল্যাকপিংকের সদস্যরা। জিসু অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করছেন। লিসা অভিনয় করেছেন এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেন তিনি।

দশ বছর পূর্তিতে চার সদস্যের এই একসঙ্গে উদ্‌যাপন তাই শুধু ভক্তদের জন্য নয়, ব্ল্যাকপিংকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরও একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর