
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। ফলে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে এখানে চিকিৎসার খরচ বেশি হবে। সরকারের আশা, নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে আংশিক চালু থাকা হাসপাতালটি এবার পূর্ণ সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে।
জানা যায়, ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৫০ শয্যার এই হাসপাতাল উদ্বোধন হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর জন্য নির্দিষ্ট জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিএমইউর বর্তমান কর্মী ও বাজেট দিয়েই এখানে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিচালনা সহজ করা এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগের ক্ষমতা দিয়ে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ গত ১৩ জুলাই সংসদে পাস হয়েছে।
এর ফলে হাসপাতালটি কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর আওতায় করপোরেট কাঠামোয় পরিচালিত হবে। বিএমইউর মালিকানা থাকবে ৯০ শতাংশ এবং সরকারের ১০ শতাংশ। অর্থাৎ হাসপাতালটি সরকারি মালিকানাতেই থাকবে। তবে পরিচালিত হবে অনেকটা বেসরকারি হাসপাতালের মতো। এতে চিকিৎসক নিয়োগ, বেতন নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি কেনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশি স্বাধীনতা পাবে।
মানুষের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং বিশ্বমানের সেবা দিতে এই হাসপাতালে পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্র রয়েছে। এগুলো হলো কার্ডিও অ্যান্ড সেরিব্রোভাসকুলার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার, কিডনি রোগ ও ইউরোলজি সেন্টার এবং জরুরি ও ট্রমা সেন্টার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে হাসপাতালটিতে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও লোকবল নিয়োগের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। নতুন এই হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা, যার জন্য খুবই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল দরকার।
‘করপোরেট মডেল’ কথাটি শুনে হাসপাতালটি বেসরকারি হয়ে যাচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে নতুন ব্যবস্থা পূর্ণ বেসরকারিকরণ নয়। হাসপাতালের ৯০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বিএমইউর। সরকারের থাকবে ১০ শতাংশ। মূল নিয়ন্ত্রণও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকবে। মূলত পরিবর্তন আসবে পরিচালন পদ্ধতিতে। বর্তমান ব্যবস্থায় ছোট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও একাধিক দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। নতুন কাঠামোয় হাসপাতাল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
স্কয়ার ও এভারকেয়ার হাসপাতালের করপোরেট পরিচালন পদ্ধতি থেকে এ মডেলের ধারণা নেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের মতো ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করপোরেট মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হাসপাতালকে আর্থিকভাবে টেকসই করা।
কোম্পানি গঠনের পর হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা থেকে পাওয়া আয় দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বেতন, আধুনিক যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং হাসপাতালের পরিচালন ব্যয় মেটানো যাবে। উদ্বৃত্ত অর্থ আবার হাসপাতালের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা যাবে। ফলে পরিচালন ব্যয়ের পুরোটা সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। হাসপাতাল নিজস্ব আয় দিয়ে এর বড় অংশ বহন করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এর অর্থ কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে হাসপাতাল তুলে দেওয়া নয়। মূল নিয়ন্ত্রণ বিএমইউর কাছেই থাকবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণও বহাল থাকবে।
এম/এএইচ






